রানা প্লাজা আর নয়

একসাথে, আমরা স্মরণ করি 

একসাথে ‘রানা প্লাজা’ স্মরণ

এটা নিশ্চিত করা যে, পোশাক শ্রমিকরা আর কখনও রানা প্লাজার মতো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে না

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, রানা প্লাজা ভবনটি সহস্রাধিক মানুষকে নিয়ে ধ্বসে পড়ে। কমপক্ষে ১,১৩৪ জন মারা যায় এবং আরও সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়। এটি পোশাক শিল্পের দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প বিপর্যয় এবং এটি ছিল পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। ভবনটি অনিরাপদ জেনেও, শ্রমিকরা তাদের মজুরি হারানোর হুমকির মুখে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছিল সেদিন। আমরা কখনই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথা ভুলতে পারি না, এবং ভুলতে পারি না তাদেরকে, যাদের জীবন এর দ্বারা শেষ হয়ে গিয়েছে ও জীবিত থেকেও যাদের জীবন উলোটপালট হয়ে গিয়েছে। 

এমনকি এই বছর যদি আমরা বাইরে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্মরণ করতে নাও পারি, তবুও আমরা দেখাতে চাই যে, তাঁরা আমাদের মনের মধ্যে রয়েছে। আপনাদের বার্তাগুলি প্রচারের মাধ্যমে, আমরা এখানে রানা প্লাজার স্মৃতির কথা স্মরণ করছি।  

Poly Akhter's mother, Shahana (38), grieves for her. Her other daughter, Dalia, also worked in the factory complex but did not go to work on the day of the collapse. Savar, Dhaka, Bangladesh. 1st June 2013. Credit Taslima Akhter.
Missing worker Rina’s (18) mother still waits for her missing daughter in front of the barricade. Debris of collapse is on the other side of the barricade. Savar, Dhaka, Bangladesh. 24th July 2013. Credit Taslima Akhter.

আমরা এটাও নিশ্চিত করতে চাই যে, রানা প্লাজার মতো দুঃখজনক ঘটনা আর যেন
কখনও না ঘটে। রানা প্লাজা ধ্বসের পর, এর পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধের উপলব্ধি থেকেই ‘বাংলাদেশে অগ্নি ও বিল্ডিং নিরাপত্তা চুক্তি(এ্যাকোর্ড) এর সৃষ্টি হয়। ২০০ টিরও বেশি ব্র্যান্ড, বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির অধীনে, ইউনিয়নগুলি ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য আদালতে মামলা করতে পারে। এই কর্মসূচির আওতায়, ২০ লক্ষ শ্রমিকের ১৬০০ টিরও বেশি কারখানাকে অধিকতর নিরাপদ করে তোলা হয়েছে।

কিন্তূ ব্র্যান্ডগুলি বর্তমানে তাদের শ্রমিকদের নিরাপদ রাখার জন্য, আইনগতভাবে আর জবাবদিহি করতে চায় না। আমরা বিশ্বাস করি না, ব্র্যান্ডগুলিকে পৃথকভাবে আদালতে আনার সুযোগ না থাকলে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। কেননা পূর্বেও, ব্র্যান্ডগুলি তাদের অডিট এবং শূন্য প্রতিশ্রুতি দ্বারা  রানা প্লাজার ঘটনাকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।আসুন, এখন তাদেরকে এই বলে একটি বার্তা পাঠাই যে, একটি সুরক্ষা কর্মসূচি কেবল তখনই অর্থবহ হবে যখন সেটা বাধ্যতামূলক হবে।

এখানে আপনার বার্তা দিন

Embed from Getty Images

ব্র্যান্ডগুলিকে বলুন: শ্রমিকদের নিরাপদ রাখুন

বাধ্যতামূলক চুক্তিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্র্যান্ডদেরকে জানানোর জন্য একটি বার্তা প্রেরণ করুণ।বার্তাটি নিজের ভাষায় প্রেরণ করুণ অথবা বার্তাটি কপি এবং পেষ্ট করে পাঠিয়ে দিন।
রানা প্লাজার প্রতিক্রিয়ায় ২০০ টিরও বেশি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এই কর্মসূচিটি ২ মিলিয়ন শ্রমিকের জন্য ১৬০০ টিরও বেশি কারখানাকে নিরাপদ করে তুলেছে। যাইহোক, ব্র্যান্ডগুলি এখন তাদের শ্রমিকদের নিরাপদ রাখার জন্য আইনগতভাবে জবাবদিহি করতে চায় না। একটি সুরক্ষা কর্মসূচি কেবল মাত্র তখনই ফলপ্রসূ হতে পারে, যখন এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হয়। রানা প্লাজায় ১,১৩৪ জনেরও বেশি লোক মারা যায়। আর কখনো না।

আমরা এটি পাঠাতে হবে: Aldi North & South, Bestseller (Vero Moda, Jack & Jones), C&A, H&M, Inditex (Zara, Pull & Bear), Lidl, LPP (Reserved), Matalan, Marks & Spencer, Next, Otto, Primark, Takko, WE fashion.

আমরা স্মরণ করি

Name/নামCountry/দেশMessage/আপনার বার্তা
CamilleBelgiumI urge you to ensure that an individually enforceable safety agreement with independent oversight safeguards the work of the Bangladesh Accord. Only if all brands are held legally accountable to the same commitment to keep their factories safe, will safety hazards in the workplace continue to be solved successfully. Brands must ensure a new safety agreement is binding upon all equally. Such an agreement must ensure that in the future also workers in other countries can be covered by this programme.
Roanna KeeIrelandMy deepest sympathies go to the families and surrounding community of the rana plaza disaster. What a vile act to put our fashionable desires above human life. Never again
Natalie BrownUnited KingdomWe remember you. We fight for you. We fight for your families.
Fiona ClancyIrelandWe remember Rana Plaza. This should never have happened and we cannot let it happen again. Rest in peace.
Nell MyersUnited KingdomWill try to never forget the people lost in the dreadful Rana Plaza disaster, workers cruelly exploited in providing clothing so casually purchased in countries like the UK.
Sally kirbyEnglandI urge you to ensure that an individually enforceable safety agreement with independent oversight safeguards the work of the Bangladesh Accord. Only if all brands are held legally accountable to the same commitment to keep their factories safe, will safety hazards in the workplace continue to be solved successfully. Brands must ensure a new safety agreement is binding upon all equally. Such an agreement must ensure that in the future also workers in other countries can be covered by this programme.
Christine NuddsUnited KingdomI send heartfelt sympathy to you who have lost loved ones, and others that have been injured. We will work in the UK to ensure you are not put in such danger again.
Hilary CollinsonUnited KingdomWe will not forget your loss and pledge to keep holding companies to account so that working conditions are ones we would be willing to work in ourselves.

বাংলাদেশ এ্যাকোর্ড কি?

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিকদের জন্য কারখানাগুলোকে অধিকতর নিরাপদ করার জন্য গ্লোবাল ট্রেড ইউনিয়নসমূহ ও ব্যান্ডগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা সম্পর্কিত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি (“বাংলাদেশ এ্যাকোর্ড”) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্র্যান্ডগুলিকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩১ মে ২০২১ তারিখে শেষ হবে। যদি এই ‘এ্যাকোর্ড চুক্তি’ নবায়ন না করা হয়, তাহলে বর্তমানে এই চুক্তির আওতায় থাকা ১,৬০০ টি পোশাক কারখানার ২০ লক্ষেরও বেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা একটি স্বেচ্ছাধীন কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) উদ্যোগের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। অতীতে স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগগুলি ব্যাপক হতাহতের ঘটনা রোধ করতে অক্ষম ছিল, এবং তাই পরবর্তীতে কোনো রানা প্লাজা ধস রোধ করার জন্য একটি বাধ্যবাধকতাহীন উদ্যোগের ওপর আস্থা রাখা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন।

ব্র্যান্ডগুলিকে অবশ্যই এমন একটি নতুন আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে যেখানে অন্যান্য দেশেও ‘এ্যাকোর্ড মডেল’ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা থাকা উচিত, যেদেশগুলোর পোশাক শ্রমিকরা অনিরাপদ কর্মপরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে, যেমন অবস্থা বাংলাদেশে ছিল রানা প্লাজা ধসের পূর্বে। 

আরও পড়ুন